জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে : শফিকুর রহমান
আপলোড সময় :
০৩-১১-২০২৬ ০৭:২৪:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৩-১১-২০২৬ ০৭:২৪:০০ অপরাহ্ন
শফিকুর রহমান
তোফােয়েল আহমেদ, নিজস্ব প্রতিনিধি: জনগণের সব অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না আসা পর্যন্ত এ লড়াই চলবে, ইনশাআল্লাহ।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারাভোগ শেষে মুক্তিলাভ উপলক্ষে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়জিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, এক মাস তিন দিন কারাভোগের পর আমাদের সহকর্মী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন-আলহামদুলিল্লাহ, আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি কোনো অন্যায় করেননি; বরং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে যাত্রীদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করা, ট্রলির সংকট, লাগেজ থেকে মালামাল চুরি এবং অন্যান্য অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। প্রতিবাদের ভাষা কঠিন হলেও তিনি কারও গায়ে হাত দেননি। অথচ তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার অভিযোগে মামলা করা হয়, যা তার ভাষ্য অনুযায়ী সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আত্মসমর্পণ না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মেজর আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দফায় নতুন ট্রলি সংযোজন, লাগেজ বেল্টে ক্যামেরা স্থাপন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে যাত্রীরা আগের তুলনায় দ্রুত লাগেজ পাচ্ছেন। এসব পরিবর্তন প্রমাণ করে, তিনি যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেগুলোর বাস্তবতা ছিল। তার প্রতিবাদের সুফল এখন সাধারণ যাত্রী ও বিশেষ করে প্রবাসীরা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ শুধু দেশের মানুষই করেননি, প্রবাসীরাও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাওয়ের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। যারা সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারাভোগের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের আমির বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা, রিমান্ডে নেওয়া এবং আদালত প্রাঙ্গণে তাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে ভয় দেখিয়ে বা মামলা দিয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না। আমাদের সহকর্মী প্রমাণ করেছেন, আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না; আমরা ভয় করি একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালাকে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স